ঢাকা ০৯:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ২৫ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

নানা সাফল্যে শেষ হলো বাংলাদেশ সরকারের ২০২২ সাল

মোহাম্মদ আলী সুমন।
  • আপডেট সময় : ০৬:৪২:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ ১১৪ বার পড়া হয়েছে

নানা সাফল্যে শেষ হয় বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর ২০২২ সাল

দেশের সময়২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিদায় নিচ্ছে ২০২২ সাল। আর মাত্র একবছর পরই জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তাই এবার বছরজুড়েই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল বাংলাদেশের রাজনীতি। সাংগঠনিক প্রস্তুতি দৃঢ় করতে নানা কার্যক্রমে নিজেদের সরব উপস্থিতির জানান দিয়েছে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ। এছাড়া স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার মধ্য দিয়ে বছরব্যাপী কর্মব্যস্ত সময় পার করেছে এই দলের নেতাকর্মীরা। এছারাও গত ২৫ জুন স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন এবং সবশেষ গত ২৮ ডিসেম্বর মেট্রোরেলের উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে ২০২২ সালটি ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে।

বছর শেষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় সাংগঠনিক সাফল্য দলটির ২২তম জাতীয় সম্মেলন। গত ২৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশের রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় এই সম্মেলন। এতে নির্ধারণ হয় দলটির আগামী তিন বছর শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্ব। এবারের সম্মেলনে দশমবারের মতো আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ নিয়ে শেখ হাসিনা ৪১ বছর ধরে দলটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। আর সাধারণ সম্পাদক পদে হ্যাটট্রিক করে পুননির্বাচিত হন ওবায়দুল কাদের।

এদিকে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ। এজন্য সভা-সমাবেশে সরাসরি যোগ দিচ্ছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরই মধ্যে নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে যশোর, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের গণসমাবেশে তিনি সশরীরে অংশ নিয়ে বক্তব্য রাখেন এবং নিজের দল আওয়ামী লীগের জন্য জনগণের কাছে ভোট প্রার্থনা করেন। এছাড়া তিনি ছাত্রলীগ ও মহিলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনেও অংশগ্রহণ করেন।

এছাড়া বছরজুড়েই আলোচনায় ছিল আওয়ামী লীগের নানা ঘটনা। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি উত্তাপ ছড়িয়েছে গেলো ১০ ডিসেম্বর ঘিরে দেশব্যাপী বিরাজমান উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলা। বলা যায়- টক অব দ্য কান্ট্রি। সেদিন বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশের স্থান নির্ধারণ নিয়ে শুরু থেকেই চলছিল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যকার যুক্তি-তর্ক। তারপর নানা চড়াই-উৎড়াই পেরিয়ে সবশেষে রাজধানীর গোলাপবাগ মাঠে ১০ দফা দাবি উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় বিএনপির বিভাগীয় সম্মেলন।

চলতি বছরের ১৭ অক্টোবর সারাদেশে জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তিন পার্বত্য জেলা বাদে ৬১টি জেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তবে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নোয়াখালী জেলা পরিষদ নির্বাচন আদালত কর্তৃক স্থগিত করা হয়। ভোলা ও ফেনী জেলার সব পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন প্রার্থীরা। ২৬ জেলায় চেয়ারম্যান পদ ছাড়াও নারীদের জন্য সংরক্ষিত পদে ১৮ জন এবং সাধারণ সদস্য পদে ৬৫ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। বাকি সকল জেলায় শান্তিপূর্ণ ভাবে নির্বাচন শেষ হয়।

গেলো দু’বছর করোনার প্রভাবে দেশের অর্থনীতিতে যে মন্দাভাব সৃষ্টি হয়েছিল, চলতি বছর ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের মধ্য দিয়ে সেটি আরও গভীর হয়। তারপরও এ বছরই বাঙালির দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ করতে সক্ষম হয় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন এই সরকার। তা হলো- স্বপ্নের পদ্মা সেতু ও মেট্রোরেলের উদ্বোধন।

গত ২৫ জুন শনিবার বেলা ১১টা ৫৮ মিনিটে সেতুর মাওয়া প্রান্তে সুধি সমাবেশসহ বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানিকতায় পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্মার দুই প্রান্ত যুক্ত হয় সড়কপথে।

এতে বিদেশি রাষ্ট্রদূত, সরকারি আমলা, রাজনৈতিক নেতারা, বিশ্বব্যাংক, এডিবিসহ নানা উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানসহ ছিলেন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার কর্মকর্তারা।

জমকালো এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই সেতু উদ্বোধনের মাধ্যমে বিশ্বব্যাংকের দুর্নীতির অভিযোগ, অর্থায়ন থেকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সরে যাওয়া, সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের পদত্যাগ সবকিছুর দাঁভাঙা জবাব দেয় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন এই সরকার। একই সাথে নিজ দেশের টাকায় পদ্মা সেতু তৈরি করে ইতিহাস রচনা করে তারা।

সবশেষ গত ২৮ ডিসেম্বর মেট্রোরেলের উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে পূরণ করা হয় বাঙালির দীর্ঘ দিনের আরেক স্বপ্নের বাস্তবায়ন। ওইদিন সকাল ১১টায় মেট্রোরেলের মূল পয়েন্ট উত্তরা দিয়াবাড়ি এলাকায় জনসভায় বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর তিনি দিয়াবাড়ী স্টেশনে প্রথম টিকিট কাটেন এবং প্ল্যাটফর্মে গিয়ে বাঁশিতে হুইসেল ও পতাকা উড়িয়ে প্রথম ট্রেন ছেড়ে দেয়ার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। এসব মিলিয়ে বলা যায়, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন শেখ হাসিনার সরকারের জন্য ২০২২ সালটি- অনবদ্য ও সাফল্যের বছর হিসেবে ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

নানা সাফল্যে শেষ হলো বাংলাদেশ সরকারের ২০২২ সাল

আপডেট সময় : ০৬:৪২:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২২

বিদায় নিচ্ছে ২০২২ সাল। আর মাত্র একবছর পরই জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তাই এবার বছরজুড়েই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল বাংলাদেশের রাজনীতি। সাংগঠনিক প্রস্তুতি দৃঢ় করতে নানা কার্যক্রমে নিজেদের সরব উপস্থিতির জানান দিয়েছে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ। এছাড়া স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার মধ্য দিয়ে বছরব্যাপী কর্মব্যস্ত সময় পার করেছে এই দলের নেতাকর্মীরা। এছারাও গত ২৫ জুন স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন এবং সবশেষ গত ২৮ ডিসেম্বর মেট্রোরেলের উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে ২০২২ সালটি ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে।

বছর শেষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় সাংগঠনিক সাফল্য দলটির ২২তম জাতীয় সম্মেলন। গত ২৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশের রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় এই সম্মেলন। এতে নির্ধারণ হয় দলটির আগামী তিন বছর শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্ব। এবারের সম্মেলনে দশমবারের মতো আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ নিয়ে শেখ হাসিনা ৪১ বছর ধরে দলটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। আর সাধারণ সম্পাদক পদে হ্যাটট্রিক করে পুননির্বাচিত হন ওবায়দুল কাদের।

এদিকে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ। এজন্য সভা-সমাবেশে সরাসরি যোগ দিচ্ছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরই মধ্যে নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে যশোর, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের গণসমাবেশে তিনি সশরীরে অংশ নিয়ে বক্তব্য রাখেন এবং নিজের দল আওয়ামী লীগের জন্য জনগণের কাছে ভোট প্রার্থনা করেন। এছাড়া তিনি ছাত্রলীগ ও মহিলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনেও অংশগ্রহণ করেন।

এছাড়া বছরজুড়েই আলোচনায় ছিল আওয়ামী লীগের নানা ঘটনা। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি উত্তাপ ছড়িয়েছে গেলো ১০ ডিসেম্বর ঘিরে দেশব্যাপী বিরাজমান উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলা। বলা যায়- টক অব দ্য কান্ট্রি। সেদিন বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশের স্থান নির্ধারণ নিয়ে শুরু থেকেই চলছিল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যকার যুক্তি-তর্ক। তারপর নানা চড়াই-উৎড়াই পেরিয়ে সবশেষে রাজধানীর গোলাপবাগ মাঠে ১০ দফা দাবি উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় বিএনপির বিভাগীয় সম্মেলন।

চলতি বছরের ১৭ অক্টোবর সারাদেশে জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তিন পার্বত্য জেলা বাদে ৬১টি জেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তবে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নোয়াখালী জেলা পরিষদ নির্বাচন আদালত কর্তৃক স্থগিত করা হয়। ভোলা ও ফেনী জেলার সব পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন প্রার্থীরা। ২৬ জেলায় চেয়ারম্যান পদ ছাড়াও নারীদের জন্য সংরক্ষিত পদে ১৮ জন এবং সাধারণ সদস্য পদে ৬৫ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। বাকি সকল জেলায় শান্তিপূর্ণ ভাবে নির্বাচন শেষ হয়।

গেলো দু’বছর করোনার প্রভাবে দেশের অর্থনীতিতে যে মন্দাভাব সৃষ্টি হয়েছিল, চলতি বছর ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের মধ্য দিয়ে সেটি আরও গভীর হয়। তারপরও এ বছরই বাঙালির দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ করতে সক্ষম হয় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন এই সরকার। তা হলো- স্বপ্নের পদ্মা সেতু ও মেট্রোরেলের উদ্বোধন।

গত ২৫ জুন শনিবার বেলা ১১টা ৫৮ মিনিটে সেতুর মাওয়া প্রান্তে সুধি সমাবেশসহ বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানিকতায় পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্মার দুই প্রান্ত যুক্ত হয় সড়কপথে।

এতে বিদেশি রাষ্ট্রদূত, সরকারি আমলা, রাজনৈতিক নেতারা, বিশ্বব্যাংক, এডিবিসহ নানা উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানসহ ছিলেন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার কর্মকর্তারা।

জমকালো এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই সেতু উদ্বোধনের মাধ্যমে বিশ্বব্যাংকের দুর্নীতির অভিযোগ, অর্থায়ন থেকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সরে যাওয়া, সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের পদত্যাগ সবকিছুর দাঁভাঙা জবাব দেয় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন এই সরকার। একই সাথে নিজ দেশের টাকায় পদ্মা সেতু তৈরি করে ইতিহাস রচনা করে তারা।

সবশেষ গত ২৮ ডিসেম্বর মেট্রোরেলের উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে পূরণ করা হয় বাঙালির দীর্ঘ দিনের আরেক স্বপ্নের বাস্তবায়ন। ওইদিন সকাল ১১টায় মেট্রোরেলের মূল পয়েন্ট উত্তরা দিয়াবাড়ি এলাকায় জনসভায় বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর তিনি দিয়াবাড়ী স্টেশনে প্রথম টিকিট কাটেন এবং প্ল্যাটফর্মে গিয়ে বাঁশিতে হুইসেল ও পতাকা উড়িয়ে প্রথম ট্রেন ছেড়ে দেয়ার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। এসব মিলিয়ে বলা যায়, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন শেখ হাসিনার সরকারের জন্য ২০২২ সালটি- অনবদ্য ও সাফল্যের বছর হিসেবে ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে।