জাতীয়

আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর

  প্রতিনিধি ২৯ আগস্ট ২০২২ , ১২:৪৫:২১ প্রিন্ট সংস্করণ

আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর
আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর

স্টাফ রিপোর্টারঃ আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ভারতে দিল্লি সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই সফরকে সফল করতে কাজ করছে উভয় দেশের সরকার। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে ভারতের সঙ্গে এক ডজনের বেশি চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর নিয়ে চলছে শেষ আলোচনা।

300px X 250px AD

নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দিক দিয়ে শেখ হাসিনার এই ভারত সফরকে গুরুত্বের সঙ্গে বিশ্লেষকেরা দেখলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেনের সবশেষ বক্তব্যে দুই দেশের সরকারই অবশ্য কিছুটা বিব্রত।

এই সফরে ভারতের কূটনৈতিক মহল এবং সংবাদ মাধ্যমে বাংলাদেশের চীনের প্রতি ঝুঁকে পড়ার যে প্রবণতার কথা বলা হচ্ছে তাও পরিষ্কার করা হবে বলে জানা গেছে।

তবে অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন নিয়ে কথা হলেও তিস্তা নিয়ে কিছু হচ্ছে না। কুশিয়ারার পানি বণ্টন নিয়ে চুক্তি হতে পারে, ভারতে যৌথ নদী কমিশনের বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ভারত বৈঠকে তা স্পষ্ট হয়েছে।

২০১৯ সালের অক্টোবরে শেখ হাসিনা সর্বশেষ ভারত সফর করেন। এরপর ৫ সেপ্টেম্বর ভারত সফরে যাচ্ছেন তিনি। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে অথবা ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।

তাই আগামী নির্বাচনের আগে এটাই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সর্বশেষ ভারত সফর বলে ধারণা করা হচ্ছে। মুজিববর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০২১ সালের মার্চে সর্বশেষ বাংলাদেশ সফর করেন।

এই সফরে যেসব বিষয় আলোচনায় আসবে তার মধ্যে আছে সামরিক সরঞ্জাম কেনা। এনিয়ে ২০১৯ সালে চুক্তি হয় ভারতের সাথে। ভারত ৫০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দেবে।

ওই ঋণের আওতায় ভারত থেকে সামরিক সরঞ্জাম কিনবে বাংলাদেশ। গত জুলাইয়ে ভারতের সেনা প্রধান যখন ঢাকা সফর করেন তখন তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাতে বিষয়টি ওঠে বলে জানা যায়।

মেরিটাইম সিকিউরিটির জন্য ভারত থেকে রাডার ক্রয় নিয়েও কথা হবে। উপ-আঞ্চলিক এনার্জি হাব গঠন নিয়ে কথা হবে। আর সেটা হলো বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভুটানকে নিয়ে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প।

এর নেতৃত্বে রয়েছে ভারত। বাংলাদেশ নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আনতে চায়। একই সঙ্গে এই অঞ্চলে জ্বালানি নিরাপত্তা কানেকটিভিটি বিষয়টি নিয়ে যৌথভাবে কাজ করতে চায় বাংলাদেশ।

এবার সফরের অর্থনেতিক বিষয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সমন্বিত বাণিজ্য চুক্তি, সেপা (কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট)।

এই চুক্তি হলে ভারত ও বাংলাদেশের পণ্য দুই দেশে শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুবিধা পাবে। বাংলাদেশ এরইমধ্যে এই চুক্তি অনুমোদন করেছে। এর সঙ্গে বাংলাদেশ এন্টি ডাম্পিং নীতি নিয়েও কথা বলবে।

এবারের সফরে বাংলাদেশ চাইছে যে দুই দেশের মধ্যে যে সর্বোচ্চ সম্পর্ক তা আরো একবার নির্বাচনের আগে প্রমাণ করা। আর সেজন্য বাংলাদেশের দিক দিয়ে সেপা চুক্তিকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। আর ভারতে যে একটি মনোভাব তৈরি হয়েছে বাংলাদেশ চীনের দিকে ঝুঁকে পড়ছে তা দূর করতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

শেখ হাসিনা ৫ সেপ্টেম্বর ভারত গিয়ে সেখানকার কূটনীতিকদের সঙ্গে মত বিনিময় করবেন। দিল্লিতে বাংলাদেশ দূতাবাস এ আয়োজন করেছে। মোদির সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা ৬ সেপ্টেম্বর। দুই নেতার যৌথ ঘেষণায় সুসম্পর্কের বিষয়টি সবচেয়ে বেশি ফোকাস করা হবে বলে জানা গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতি সম্পর্কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব) মাশফি বিনতে সামস জানান, প্রস্তুতিমূলক বৈঠক যতগুলো করা সম্ভব, ইতোমধ্যে হয়ে গেছে। আমাদের পক্ষ থেকে পূর্ণ প্রস্তুতি নিচ্ছি।

একটি সফল সফরের লক্ষ্যে কাজ চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দুই সরকারের মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। আমরা একটি ভালো সফরের আশাবাদী।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির মনে করেন, নির্বাচনের আগে যেহতু এই সফর তাই স্বাভাবিক কারণেই দুই দেশের নেতাদের মধ্যে রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা তো হবেই।

তার মতে কী আলোচনা হবে সেটা তো আর আমরা জানতে পারব না। কারণ রাজনৈতিক বিষয়ে আলোচনা তো আর প্রকাশ করা হয় না।’

তিনি মনে করেন, ‘‘দুই দেশের মধ্যে সুম্পর্ক আছে কিন্তু সেই সম্পর্ক হতে হবে সমতার ভিত্তিতে। দেনা পাওনার হিসেবে ধরলে আমরা কম পাচ্ছি। ভারতকে আমরা যেরকম সুযোগ সুবিধা দিই। আমরাও তো সেরকম সুযোগ সুবিধা চাই। আর এটা সুষম হতে হবে।

আরও খবর

Sponsered content