সেই থেকে আর বাবা বলে ডাকতে পারিনা..... - DesherSomoy24.com
ঢাকারবিবার , ১৯ জুন ২০২২
  1. অপরাধ
  2. আন্তর্জাতিক
  3. খেলা
  4. জাতীয়
  5. নির্বাচন
  6. প্রচ্ছদ
  7. প্রধান খবর
  8. প্রবাসে বাংলা
  9. ফিচার
  10. বিনোদন
  11. ব্যবসা ও বাণিজ্য
  12. রাজনীতি
  13. শিক্ষা ও সাহিত্য
  14. সব
  15. সারাদেশ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সেই থেকে আর বাবা বলে ডাকতে পারিনা…..

Mohammad Ali Sumon
জুন ১৯, ২০২২ ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

আমার প্রতিনিয়ত বাবার ছবি চোখে ভাসে, এর কোন আলাদা দিবস নেই,তবুও একটু লিখলাম অনলাইনে অনেকেই লিখছে,

বাবা হচ্ছে বটবৃক্ষ, এক অবস্থানে থেকেও মমতার চাদরে চারদিক ঢাকা থাকে প্রতিটি মুহুর্ত। আজ ২৩ বছর হলো বাবা কে ডাকছি কিন্তু শুনছে না, ওপর প্রান্ত থেকে সারাও পচ্ছি না,কারন বাবা তো উপারে চলে গেছে,যেখান থেকে আর ফিরে আসে না।

কখনো ভাবিনি এত অকালেই বটবৃক্ষ টা না ফেরার দেশে চলে যাবে।

আমার খুব মনে পরে, মনে পরে সেদিনের আত্ব-চিৎকার গুলো,কানের পর্দায় খুব জোরে আঘাত লাগে।

সেদিন ছিলো বৃহস্পতিবার, ১৯৯৯ এর কথা বলছি,রমজানের চাঁদ উঠেছে, পাড়ার সবাই আনন্দে মাতোয়ারা ছিলো চারদিক,আর আমার কলিজায় ও আঘাত লাগছিলো তখন,বাবা মুমূর্ষ অবস্থায় বিছানায় কাতরাচ্ছে।

একটু পর পর আমার বোকটা হুহু করে কেঁদে উঠে, হাসপাতাল ফেরত ক্যানসারে আক্রান্ত বাবাকে নিয়ে আমি আর মা দুইপাশে বসে আছি,ডাক্তারদের কথা মত বাবার চলে যাওয়ার সময়ও দুইদিন পারহয়ে যাচ্ছে, আমি বিষয় টা খুব ভালই বুঝতে পেরেছি আমার বাবা আর বাঁচবে না, কিন্তু কাউকে বলতে পারতাম না।

ওই দিন আশে পাশের সবাই তারাবিহর নামাজ নিয়ে ব্যাস্ত, বাবাও চলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, মা ও কাঁদছে আমিও বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে হু হু করে নিশ্বব্দে কাঁদছি, দু-চোখ দিয়ে পানি ঝরছে অঝর দ্বারায়।

আমি ছিলাম সবার বড়, পারুল টাও পাশে এসে বসলো,আমাদের দিকেও তাকায় বাবার দিকেও তাকায়, বুঝতে পারছে বাবার মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে,তবে বুঝেনি যে আমাদের ছেরে চলে যাবে।

ছোট দুইজন পাখি ও মোস্তফা ওরা তখন ঘুমাচ্ছিলো, এদিকে বাবা ইসারা করছে অতি আদরের মোস্তফাকে একনজর দেখবে,পাখির মাথায় ও হাত ভুলাবে,এমন দৃশ্য দেখে আমার কলিজাটা যেন মুহুর্তেই ভেঙ্গে চৌচির হয়ে যাচ্ছে, ওদের কে ঘুমথেকে জাগিয়ে বাবার পাশে বসালাম একপাশে মা বসে আছে আর নিশ্বব্দে কাঁদছে, আমরা ৪ ভাই বোন একপাশে বসলাম,বাবা হাতদিয়ে ইশারা করছে আমাদের কে চুমু খেতে চায়,আমরাও বাকা হয়ে বাবার মুখের কাছে মুখ নিলাম, মাথায় হাত ভুলাচ্ছে আর কাঁদছে, এমন কষ্টটা সইতে পারছিনা,মনে হচ্ছে আমি মরে গিয়ে বাবাকে বাচাঁই।

কিন্তু বিদাতার লিখন আবেগের চাইতেও কঠোর, বাবার এমন অবস্থা দেখে কেউ কোন কিছু খায় নি, কিছুক্ষন চুপচাপ থেকে আমার হাতটা ধরে বাবার বোকের উপর রাখলো,অন্য পাশে মাকেও ইশারা করলো, আর শুধু বলতে লাগলো তোর মা কে দেখে রাখিশ, ছোট পারুল,পাখি আর আদরের মোস্তফাকে ও মায়ার আদরে আগলে রাখিশ, কথাদে তুই কথাদে….

বলতে বলতে যেন আস্তে আস্তে চুপ হতে লাগলো, আর বিভিন্ন দোয়া পাঠ করতে লাগলো, একবার পানিও খাইতে চাইলো মা চামচ দিয়ে পানি মুখে তুলে দিচ্ছে,কে জানতো এই পানিটাই জিবনের শেষ খাওয়া ছিলো….?

ঐদিকে তারাবিহর নামাজও প্রায় শেষ হলো, বাবা হাত পা নারছে আর মৃত্যুর যন্ত্রনায় কেমন যানি করছে, কিছুক্ষন এমন করতে করতে হঠাৎ দেখি আর কোন সারা নেই,আমার পৃথিবী টা যেন চারদিকে অন্ধকার নেমে গেছে, শুধু কান্নার আওয়াজ ছরিয়ে পরছে চারদিকে।

হারিয়ে ফেল্লাম বাবাকে,উপারে চলে গেছে চিরদিনের মত আমাদের কে ছেরে, মা ও ছোটদের কে নিয়ে অনেক চরাই উত্তরাই পর করছি, দুঃখের স্বাগরে ভাসতেছি আজও বুঝতে দেইনি বাবা না থাকার কষ্ট কেমন,কিন্তু মা কে সব কিছু দিতে পারছিনা,স্বামীর আদর আর ফিরিয়ে দিতে পারলাম না আজও।আমি প্রান ভরে দোয়া করি উপারে যেন ভাল থাকে বাবা।

 

মোহাম্মদ আলী সুমন

গণমাধ্যম কর্মী

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।