ঢাকা ০৯:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ২৫ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

আত্মহত্যা নয়, সংগ্রাম করে বেঁচে থাকাটাই সফলতা; মোঃ তারেক মিয়াজী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৩:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১ ১০১ বার পড়া হয়েছে

আত্মহত্যা নয়, সংগ্রাম করে বেঁচে থাকাটাই সফলতা; মোঃ তারেক মিয়াজী

দেশের সময়২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চলে যাওয়ার আগে অথবা আত্মহত্যা করার আগে মানুষ কয়েকটা সংকেত দিয়ে যায়! সংকেতগুলো কাছের মানুষরাই খুব বেশি বুঝতে পারে আর কেউ না! এই বিষয়টি হঠাৎ করেই আসেনা। কয়েকটা কারণ অনেকগুলো ঘটনার প্রবাহকাল সংযুক্ত হয়েই মানুষ ডিপ্রেশনে চলে যায়। কিন্তু তখন কেউ আত্মহত্যা করেনা! তখন নিজেকে নিজে বন্দি করে রাখে।

খুব একাকিত্ব অনুভব করে। সবাইকে তাঁর শক্রু মনে হয়। ডিপ্রেশনের ও একটা বয়স আছে! সময় নির্ধারিত আছে। মানষিক ভাবে দূর্বল না করা পর্যন্ত ডিপ্রেশনে ভুগতে থাকা মানুষ আত্নহত্যা করেনা। যখন দূর্বল হয়ে যায়..তখন মানুষের ইন্দ্রিয়গুলো কাজ খুব কম করে। ভয়ানক একটা একাকিত্ব লাগে তখন..চারপাশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়, তখন তা নিয়ন্ত্রণহীনে চলে যায়। ডিপ্রেশন আপনার বন্ধুর মতো হয়ে আপনার পাশে সর্বক্ষণ থাকে।

যখন বুঝতে পারে আপনি তাঁকে ছাড়তে অক্ষম তখন সে আপনাকে আরো গ্রাস করে নেয়। প্রায় তখন সবাই একাকী থাকতে পছন্দ করে। ঘরের দরজা জানালা বন্ধ করে দেয়।

আত্মহত্যা কেন করে মানুষঃ
আত্মহত্যা করার অনেকগুলো কারণ থাকতে পারে। আশির দশকের চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা মনে করতেন। গভীর বিষণ্নতা এবং অন্যান্য মানষিক রোগের কারণে মানুষ আত্মহত্যা করে থাকে। যেমন সিজোফ্রেনিয়া বাই-পোলার ইত্যাদি। আবার দেখা যায় কোন কারণ ছাড়াই প্রায় মানুষ আত্মহত্যা করে থাকে। বর্তমান সময়ে তা কিছুটা ভিন্নতা পেয়েছে। খুব সামান্য কারণেই মানুষ আত্মহত্যা করে থাকে।

পরীক্ষায় ভালো ফলাফল না হওয়ার কারণে। সেক্ষেত্রে এসএসসি পরিক্ষার্থীদের বিষয়টি ভিন্ন..কেননা তাঁদের অনেকের তখন বয়ঃসন্ধিকাল সময় চলে, বয়ঃসন্ধিকালে এমনিতেই তাঁদের মনের ভিতর অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়ে থাকে। শরীরের গ্রোথ তখন বৃদ্ধি পায়। তাঁদের লজ্জার কারণে অনেক প্রশ্ন তাঁরা করতে পারেনা বাবা মাকে। আর বাবা মা সবসময় এই বিষয়গুলোও লক্ষ রাখেনা। লক্ষ রাখতে হবে যে তাঁদের সন্তান কি করে? তাঁর সাথে বন্ধুসুলভ আচরণ করতে হবে।

ঠিক সেই মূহুর্তে যখন তাঁদের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ পায়। তখন খারাপ ফলাফলের জন্য তাঁরা আত্মহত্যা করে।তাঁদের ভিতরে কাজ করে পৃথিবীতে এর থেকে হয়তো লজ্জ্বার আর কিছু নেই। এই জন্যই তাঁদেরকে তখন কাছাকাছি রাখতে হবে। বুঝাতে হবে এসএসির ফলাফল জীবনেও জন্য সবকিছু নয়। সামনে অনেক সময় আছে চিন্তা করেনা। আর বাবা মা যখন সন্তানকে বকাবকি করে সেই জন্যও মাঝে মাঝে তাঁরা আত্মহত্যার মতো জঘণ্য পথ বেঁচে নেয়! আরও অনেকগুলো কারণেও মানুষ আত্মহত্যা করে থাকে।

অর্থনৈতিক টানাপোড়েনে, চাকুরিচ্যুত হওয়া, ব্যবসায়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, পারিবারিক কলহ, ঋণগ্রস্থ, অনেক সময় দেখা যায় স্বাভাবিক মানুষ চলাফেরা করছে কিন্তু হুট করেই আত্মহত্যা করে থাকে। এঁদের আত্মহত্যাটা হয়ে থাকে হঠাৎ করেই বড় কোন ধাক্কা খেয়েছে কিন্তু মূহুর্তে তা সামাল দিতে না পারার কারণে তাঁরা আত্মহত্যা করে থাকে। আবার সাংসারিক প্রেম-সংক্রান্ত বিষয়ে মানুষ আত্মহত্যা করে থাকে। প্রেম-বিয়ে এক্ষেত্রে যোগ্যতা অনেক বাঁচাই করে থাকে।

দেখা যাচ্ছে সম্পর্কের একটা সময় আসলো ভালো কোন সঙ্গী বাঁছাই করতে পারলে পূর্বের জনের সাথে একটা সম্পর্কচ্ছেদ করে থাকে! আর তখন সে হীনমন্যতায় সময় পার করে। আত্মহত্যাটা সেই জন্যও হয়ে থাকে। আত্মহত্যা নিয়ে কাজ করে মাজেদা ফাউন্ডেশন থেকে ২০১৬ সালে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যা প্রবণ এলাকা ঝিনাইদহের মহেশপুরে আমরা গিয়েছিলাম জনসচেতনতা মূলক কার্যক্রমে। আমাদের সাথে স্থানীয় সংসদ সদস্যও উপস্থিত ছিলেন।

মহেশপুরে একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে আমরা এসএসসি পরীক্ষার্থীদের নিয়ে একটা ক্যাম্পেইন করি। ক্যাম্পেইন চলাকালীন সময়ে আমরা সকলের কাছ থেকে জানতে চাই তোমাদের কোন সমস্যা আছে কিনা! তখন দেখলাম অনেকেই বলতে ইচ্ছুক নয়। পরে আমরা সকলের হাতে কাগজ কলম দিয়ে বলি তোমাদের সমস্যাগুলো এখানে লিখো, ২০ মিনিট পর আমরা সেই কাগজ আমাদের স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে সংগ্রহ করি। তখন আমরা যা পাই তা হলো একজন লিখেছে আমার বাবা জমিতে কাজ করেন আমার বড় ভাই বাবার কাছ ১০০টাকা চেয়েছি বাবা দিতে পারেনি। তাই ভাই আত্মহত্যা করেছে।

এখন আমি কোন টাকা চাইনা আর বাবার কাছে। আরো একজন লিখেছে (মেয়ে) আমাদের এখানে ৪/৫ দিন পরপর মানুষ আত্মহত্যা করে থাকে। কেন করে আমরা তা জানিনা। স্কুলের প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন স্কুলের বয়স প্রায় ১৮বছর। এই সময়ে তাঁদের ২০’র অধিক ছাত্র-ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। তাঁর মানে বছরে ১ এর অধিক। আমরা কিছু বাড়িতে পরবর্তী সময়ে ঘুরে আসি। মহেশপুর থানাটি একেবারে ভারতের বর্ডার সাইড। নির্জনে
স্থানীয়দের মতে অনেক মানুষ আত্মহত্যা করে থাকে। ছেলের সাথে হালকা ঝগড়া হলে মা আত্মহত্যা করে। ছেলের বউয়ের সাথে শ্বশুড় কিংবা শ্বাশুড়ি।

আত্মহত্যা নিয়ে বাংলাদেশে তেমন কোন পরিসংখ্যান নেই। আমরা মাজেদা ফাউন্ডেশন থেকে চেষ্টা করে চলেছি প্রতি বছর আত্মহত্যা নিয়ে একটি পরিসংখ্যান প্রকাশ করতে। যেমন বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে প্রতি বছর প্রায় ৮লাখ মানুষ আত্মহত্যা করে থাকে। মানে হলো প্রতি ৪৫ সেকেন্ডে ১জন! বর্তমান সময়ে যা দিনদিন বেড়েই চলেছে। প্রতি বছর প্রায় ৬৫লাখ মানুষ আত্মহত্যার ঝুঁকিতে থাকে। যাঁদের বেশির ভাগ অল্প বয়সী এবং নারী।আত্মহত্যা বর্তমানে অনেক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, সেলিব্রেটি, খেলোয়ার, ইত্যাদি।

আত্মহত্যা থেকে বাঁচার উপায়ঃ
বর্তমানে কোভিড-১৯ এর সময়ে দীর্ঘদিন ধরে ঘর বন্দি বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ। প্রথমদিকে সবাই স্বাভাবিক থাকলেও আস্তে আস্তে তা ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। দীর্ঘদিন ঘরে থাকার কারণে পারিপার্শ্বিকতা এবং পারিবারিক কলহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের ফেসবুক পেইজে প্রায় এই টাইপ মেসেজ আসে। আমরা কাউন্সিলিং সেন্টারের মাধ্যমে চেষ্টা করে থাকি সমাধানের জন্য।

কোভিড-১৯ এর কারণে অনেকেই ব্যবসায়ীক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, অনেকের চাকুরি চলে গেছে এইসব কারণেও অনেকেই বর্তমানে মারাত্মক হতাশায় ভুগছেন। তাঁদের উদ্দেশ্য বলা এই সময় এই ২০২০সালটা বেঁচে থাকার বছর। আপনি বেঁচে আছেন এটাই হলো মূল সফলতা আপনার।

অনেকেই তো অনেক প্রিয়জন হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে আছেন। কারো কারো ৪ জন পরিবারের সদস্যের ৩ জনই নেই। তাঁদের অবস্থা তাঁদের মানষিক অবস্থা কেমন ভাবতে পারেন। এটা ভাবুন আপনি। এবং নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। চাকুরি চলে গেছে ব্যস্ত হয়ে পড়ুন কৃষিতে অনেকেই এসবে ভালো করছে। মূলত আপনাকে এই সময়ে ঘরবন্দী থাকার পাশাপাশিই প্রয়োজনে বই পড়ুন।

ব্যায়াম করুন। মানষিক চাপ সবসময় নিতে হয়না। ভবিষ্যতে এই আঁধার কেটে যাবে, আলো আসবেই। আমাদের আলোতে আমরা সব বিষন্নতা সব দুঃখ ভাসিয়ে দিয়ে কাঁধে-কাধ রেখে জয়গান গেয়ে যাবোঃ ‘আমার সোনার বাংলা,
আমি তোমায় ভালবাসি’

লেখকঃ নাট্য-নির্মাতা ও সভাপতি মাজেদা ফাউন্ডেশন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আত্মহত্যা নয়, সংগ্রাম করে বেঁচে থাকাটাই সফলতা; মোঃ তারেক মিয়াজী

আপডেট সময় : ০৭:৪৩:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১

চলে যাওয়ার আগে অথবা আত্মহত্যা করার আগে মানুষ কয়েকটা সংকেত দিয়ে যায়! সংকেতগুলো কাছের মানুষরাই খুব বেশি বুঝতে পারে আর কেউ না! এই বিষয়টি হঠাৎ করেই আসেনা। কয়েকটা কারণ অনেকগুলো ঘটনার প্রবাহকাল সংযুক্ত হয়েই মানুষ ডিপ্রেশনে চলে যায়। কিন্তু তখন কেউ আত্মহত্যা করেনা! তখন নিজেকে নিজে বন্দি করে রাখে।

খুব একাকিত্ব অনুভব করে। সবাইকে তাঁর শক্রু মনে হয়। ডিপ্রেশনের ও একটা বয়স আছে! সময় নির্ধারিত আছে। মানষিক ভাবে দূর্বল না করা পর্যন্ত ডিপ্রেশনে ভুগতে থাকা মানুষ আত্নহত্যা করেনা। যখন দূর্বল হয়ে যায়..তখন মানুষের ইন্দ্রিয়গুলো কাজ খুব কম করে। ভয়ানক একটা একাকিত্ব লাগে তখন..চারপাশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়, তখন তা নিয়ন্ত্রণহীনে চলে যায়। ডিপ্রেশন আপনার বন্ধুর মতো হয়ে আপনার পাশে সর্বক্ষণ থাকে।

যখন বুঝতে পারে আপনি তাঁকে ছাড়তে অক্ষম তখন সে আপনাকে আরো গ্রাস করে নেয়। প্রায় তখন সবাই একাকী থাকতে পছন্দ করে। ঘরের দরজা জানালা বন্ধ করে দেয়।

আত্মহত্যা কেন করে মানুষঃ
আত্মহত্যা করার অনেকগুলো কারণ থাকতে পারে। আশির দশকের চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা মনে করতেন। গভীর বিষণ্নতা এবং অন্যান্য মানষিক রোগের কারণে মানুষ আত্মহত্যা করে থাকে। যেমন সিজোফ্রেনিয়া বাই-পোলার ইত্যাদি। আবার দেখা যায় কোন কারণ ছাড়াই প্রায় মানুষ আত্মহত্যা করে থাকে। বর্তমান সময়ে তা কিছুটা ভিন্নতা পেয়েছে। খুব সামান্য কারণেই মানুষ আত্মহত্যা করে থাকে।

পরীক্ষায় ভালো ফলাফল না হওয়ার কারণে। সেক্ষেত্রে এসএসসি পরিক্ষার্থীদের বিষয়টি ভিন্ন..কেননা তাঁদের অনেকের তখন বয়ঃসন্ধিকাল সময় চলে, বয়ঃসন্ধিকালে এমনিতেই তাঁদের মনের ভিতর অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়ে থাকে। শরীরের গ্রোথ তখন বৃদ্ধি পায়। তাঁদের লজ্জার কারণে অনেক প্রশ্ন তাঁরা করতে পারেনা বাবা মাকে। আর বাবা মা সবসময় এই বিষয়গুলোও লক্ষ রাখেনা। লক্ষ রাখতে হবে যে তাঁদের সন্তান কি করে? তাঁর সাথে বন্ধুসুলভ আচরণ করতে হবে।

ঠিক সেই মূহুর্তে যখন তাঁদের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ পায়। তখন খারাপ ফলাফলের জন্য তাঁরা আত্মহত্যা করে।তাঁদের ভিতরে কাজ করে পৃথিবীতে এর থেকে হয়তো লজ্জ্বার আর কিছু নেই। এই জন্যই তাঁদেরকে তখন কাছাকাছি রাখতে হবে। বুঝাতে হবে এসএসির ফলাফল জীবনেও জন্য সবকিছু নয়। সামনে অনেক সময় আছে চিন্তা করেনা। আর বাবা মা যখন সন্তানকে বকাবকি করে সেই জন্যও মাঝে মাঝে তাঁরা আত্মহত্যার মতো জঘণ্য পথ বেঁচে নেয়! আরও অনেকগুলো কারণেও মানুষ আত্মহত্যা করে থাকে।

অর্থনৈতিক টানাপোড়েনে, চাকুরিচ্যুত হওয়া, ব্যবসায়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, পারিবারিক কলহ, ঋণগ্রস্থ, অনেক সময় দেখা যায় স্বাভাবিক মানুষ চলাফেরা করছে কিন্তু হুট করেই আত্মহত্যা করে থাকে। এঁদের আত্মহত্যাটা হয়ে থাকে হঠাৎ করেই বড় কোন ধাক্কা খেয়েছে কিন্তু মূহুর্তে তা সামাল দিতে না পারার কারণে তাঁরা আত্মহত্যা করে থাকে। আবার সাংসারিক প্রেম-সংক্রান্ত বিষয়ে মানুষ আত্মহত্যা করে থাকে। প্রেম-বিয়ে এক্ষেত্রে যোগ্যতা অনেক বাঁচাই করে থাকে।

দেখা যাচ্ছে সম্পর্কের একটা সময় আসলো ভালো কোন সঙ্গী বাঁছাই করতে পারলে পূর্বের জনের সাথে একটা সম্পর্কচ্ছেদ করে থাকে! আর তখন সে হীনমন্যতায় সময় পার করে। আত্মহত্যাটা সেই জন্যও হয়ে থাকে। আত্মহত্যা নিয়ে কাজ করে মাজেদা ফাউন্ডেশন থেকে ২০১৬ সালে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যা প্রবণ এলাকা ঝিনাইদহের মহেশপুরে আমরা গিয়েছিলাম জনসচেতনতা মূলক কার্যক্রমে। আমাদের সাথে স্থানীয় সংসদ সদস্যও উপস্থিত ছিলেন।

মহেশপুরে একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে আমরা এসএসসি পরীক্ষার্থীদের নিয়ে একটা ক্যাম্পেইন করি। ক্যাম্পেইন চলাকালীন সময়ে আমরা সকলের কাছ থেকে জানতে চাই তোমাদের কোন সমস্যা আছে কিনা! তখন দেখলাম অনেকেই বলতে ইচ্ছুক নয়। পরে আমরা সকলের হাতে কাগজ কলম দিয়ে বলি তোমাদের সমস্যাগুলো এখানে লিখো, ২০ মিনিট পর আমরা সেই কাগজ আমাদের স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে সংগ্রহ করি। তখন আমরা যা পাই তা হলো একজন লিখেছে আমার বাবা জমিতে কাজ করেন আমার বড় ভাই বাবার কাছ ১০০টাকা চেয়েছি বাবা দিতে পারেনি। তাই ভাই আত্মহত্যা করেছে।

এখন আমি কোন টাকা চাইনা আর বাবার কাছে। আরো একজন লিখেছে (মেয়ে) আমাদের এখানে ৪/৫ দিন পরপর মানুষ আত্মহত্যা করে থাকে। কেন করে আমরা তা জানিনা। স্কুলের প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন স্কুলের বয়স প্রায় ১৮বছর। এই সময়ে তাঁদের ২০’র অধিক ছাত্র-ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। তাঁর মানে বছরে ১ এর অধিক। আমরা কিছু বাড়িতে পরবর্তী সময়ে ঘুরে আসি। মহেশপুর থানাটি একেবারে ভারতের বর্ডার সাইড। নির্জনে
স্থানীয়দের মতে অনেক মানুষ আত্মহত্যা করে থাকে। ছেলের সাথে হালকা ঝগড়া হলে মা আত্মহত্যা করে। ছেলের বউয়ের সাথে শ্বশুড় কিংবা শ্বাশুড়ি।

আত্মহত্যা নিয়ে বাংলাদেশে তেমন কোন পরিসংখ্যান নেই। আমরা মাজেদা ফাউন্ডেশন থেকে চেষ্টা করে চলেছি প্রতি বছর আত্মহত্যা নিয়ে একটি পরিসংখ্যান প্রকাশ করতে। যেমন বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে প্রতি বছর প্রায় ৮লাখ মানুষ আত্মহত্যা করে থাকে। মানে হলো প্রতি ৪৫ সেকেন্ডে ১জন! বর্তমান সময়ে যা দিনদিন বেড়েই চলেছে। প্রতি বছর প্রায় ৬৫লাখ মানুষ আত্মহত্যার ঝুঁকিতে থাকে। যাঁদের বেশির ভাগ অল্প বয়সী এবং নারী।আত্মহত্যা বর্তমানে অনেক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, সেলিব্রেটি, খেলোয়ার, ইত্যাদি।

আত্মহত্যা থেকে বাঁচার উপায়ঃ
বর্তমানে কোভিড-১৯ এর সময়ে দীর্ঘদিন ধরে ঘর বন্দি বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ। প্রথমদিকে সবাই স্বাভাবিক থাকলেও আস্তে আস্তে তা ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। দীর্ঘদিন ঘরে থাকার কারণে পারিপার্শ্বিকতা এবং পারিবারিক কলহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের ফেসবুক পেইজে প্রায় এই টাইপ মেসেজ আসে। আমরা কাউন্সিলিং সেন্টারের মাধ্যমে চেষ্টা করে থাকি সমাধানের জন্য।

কোভিড-১৯ এর কারণে অনেকেই ব্যবসায়ীক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, অনেকের চাকুরি চলে গেছে এইসব কারণেও অনেকেই বর্তমানে মারাত্মক হতাশায় ভুগছেন। তাঁদের উদ্দেশ্য বলা এই সময় এই ২০২০সালটা বেঁচে থাকার বছর। আপনি বেঁচে আছেন এটাই হলো মূল সফলতা আপনার।

অনেকেই তো অনেক প্রিয়জন হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে আছেন। কারো কারো ৪ জন পরিবারের সদস্যের ৩ জনই নেই। তাঁদের অবস্থা তাঁদের মানষিক অবস্থা কেমন ভাবতে পারেন। এটা ভাবুন আপনি। এবং নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। চাকুরি চলে গেছে ব্যস্ত হয়ে পড়ুন কৃষিতে অনেকেই এসবে ভালো করছে। মূলত আপনাকে এই সময়ে ঘরবন্দী থাকার পাশাপাশিই প্রয়োজনে বই পড়ুন।

ব্যায়াম করুন। মানষিক চাপ সবসময় নিতে হয়না। ভবিষ্যতে এই আঁধার কেটে যাবে, আলো আসবেই। আমাদের আলোতে আমরা সব বিষন্নতা সব দুঃখ ভাসিয়ে দিয়ে কাঁধে-কাধ রেখে জয়গান গেয়ে যাবোঃ ‘আমার সোনার বাংলা,
আমি তোমায় ভালবাসি’

লেখকঃ নাট্য-নির্মাতা ও সভাপতি মাজেদা ফাউন্ডেশন।