অপরাধ

আবারও সক্রিয় ইয়াবা সম্রাট শাহ আলম

  প্রতিনিধি ২২ ডিসেম্বর ২০২১ , ৯:৩৭:১০ প্রিন্ট সংস্করণ

ইয়াবা সম্রাট শাহ আলম
ইয়াবা সম্রাট শাহ আলম এপিবিএন এর কাছে গ্রেফতার বিমানবন্দরে

কুমিল্লার আন্তর্জাতিক ইয়াবা পাচারকারী ইয়াবা সম্রাট শাহ আলম ও তার সিন্ডিকেট আবারো সক্রিয় দেশ বিদেশে; বিমান সহ নানা ভাবে পাচার হচ্ছে ইয়াবা!

300px X 250px AD

মিয়ানমার থেকে আসা ইয়াবা এখন বাংলাদেশ থেকে পাচার হচ্ছে সৌদি আরবে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে চোরাকারবারিরা। টাকার লোভ দেখিয়ে কিংবা আত্মীয়ের কাছে পার্সেল দেওয়ার নামে প্রবাসীদের কাছে দেওয়া হচ্ছে ইয়াবার চালান। মাদক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের ফাঁদে পড়ে বিপদের সম্মুখীন হচ্ছেন প্রবাসীরা। সৌদি আরবে বাঙালিদের ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে সৌদি পুলিশ। বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের বিমানবন্দরে ইয়াবাসহ ধরা খেয়ে মাদক মামলায় জেলে যাচ্ছেন প্রবাসীকর্মীরা।

আর এই ইয়াবা ব্যবসার মূল সিন্ডিকেট শনাক্ত হয়েছে কুমিল্লা জেলা। অথচ রেমিট্যান্সের দিক দিয়ে দ্বিতীয় এ জেলা। তবে দেশের প্রবাসী আয়ের প্রধান শ্রমবাজার সৌদি আরব সহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ইয়াবা ব্যাবসার সয়লাভ হওয়ায় বিশাল প্রভাব পরতে পারে রেমিট্যান্স অর্জনের ওপর এমন আসংখ্যা প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের।

গত ৮মাসে এই জেলার চিহ্নিত আন্তর্জাতিক ইয়াবা ব্যবসায়ী কুমিল্লা সদর উপজেলার কালির বাজারের ধনুয়াখলা এলাকার ইয়াবা সম্রাট শাহ আলমবেশ কিছু চালান দেশে বিদেশের এয়ারপোর্ট সহ বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়।

এর পর গত বছরের ২৮জুলাই সৌদি আরবে ইয়াবা প্রাচারের আগে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এপিবিএন এর হাতে ৯ হাজার পিস ইয়াবা সহ আটক হয় আন্তর্জাতিক ইয়াবা ডিলার শাহআলমের ব্যক্তিগত গাড়ি চালক ধনুয়াখলা এলাকার সাদ্দাম।

পরে তার দেয়া স্বীকারোক্তি ও ব্যবহৃত মোবাইল থেকে প্রাপ্ত তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে মুল হোতা শাহআলম এবং সহযোগী কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার সূয়াগাজী কমলপুর এলাকার জিহাদ, মেডিক্যাল কলেজ এলাকার মাসুদ সহ কয়েকজনের নামে মামলা হয় বিমানবন্দর থানায়।

এদিকে সৌদি আরবে নকোটিক্স ও গোয়েন্দাদের তালিকায় নাম থাকা শাহআলম অবস্থা বেগতিক দেখে দেশ ছেড়ে পালানোর সময় ২০আগষ্ট ভোরে বিমানবন্দরে এপিবিএন এর হাতে আটক হয়।

শাহআলমের ড্রাইভার সাদ্দাম ও লিটনের দুই ভাই এবং সহযোগীরা জেলে থাকলেও কিছুদিন আগেই জেল থেকে জমিনে বেরিয়ে আসে ইয়াবা মাফিয়া সেই শাহআলম। বর্তামানে সৌদি আরবের শীর্ষ ইয়াবা ডিলারদের আরো ২জন শাহআলমের অন্যতম সহযোগী বুড়িচং উপজেলার সোন্দ্রম এলাকার শাহপরান বর্তমানে দেশে অবস্থান কারছেন।

তবে শাহআলমের আরেক সঙ্গী মজলিশপুর এলাকার কাজী বাড়ির শাহীন বর্তমানে অবস্থান করছেন সৌদি আরবে। এদিকে জেল থেকে বেড়িয়ে শাহআলম ঢাকার পুরোনো ঠিকানা পরিবর্তন করে অবস্থান করছে গাজিপুর চৌরাস্তার আশেপাশের এলাকায়।

আত্তগোপনে থেকেই কুমিল্লা, চট্রগ্রাম ও কক্সবাজার থেকে ইয়াবার কারবার পরিচালনা করছে সৌদি আরব সহ মধ্যেপ্রাচ্চের বিভিন্ন দেশে।

তবে বছরের শুরুতেই রিয়াদ, আল-কাসিম ও জেদ্দায় ইয়াবার থাবায় হাজারো যুবক ধ্বংস হলেও সৌদি আরবে ইয়াবার সবচেয়ে বড় ডিলার হিসেবে পরিচিতরাও অল্প সময়ে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন।

ঢাকায়,নরসিংদী কুমিল্লা সহ বিভিন্ন দেশে কিনেছেন একাধিক প্লট, ফ্লাট, বাড়ি সহ কয়েকটি করে ব্যক্তিগত গাড়ি। এদের কেউ আবার করেছেন একাধিক বিয়ে এবং দেশে বিদেশে রেখেছে রক্ষিতাও।

হালের শীর্ষ ইয়াবা ডিলার শাহপরান স্ত্রী কে নিয়ে থাকেন দেড় কোটি টাকায় কেনা নরসিংদী জেলখানা রোডের একটি আলিশান ফ্লাটে। সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থানকারী শাহীন, ঢাকায় শহআলাম, লিটন ও শাহপরানের এই সিন্ডিকেটে দেশে এবং বিদেশে জড়িত রয়েছে অন্তত কুমিল্লার আরো ৬০-৬৫ জন, যাদের বাড়ি বেশির ভাগই কুমিল্লা সদর, বুড়িচং ও দেবিদ্বার উপজেলায়।

আরও খবর

Sponsered content